Mar 01, 2016 / by ictexpo / No Comments

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও প্রসারিত করতে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বসছে প্রযুক্তিপণ্যের উন্মুক্ত আয়োজন ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো-২০১৬’।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলন করে প্রদর্শনীর বিস্তারিত তুলে ধরেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত চলবে তিনদিনের এই প্রদর্শনী। দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার দ্বার খোলা থাকবে।

প্রদর্শনীতে ৫৯টি প্যাভিলিয়ন ও ৭০টি ছোট-বড় স্টল থাকবে। এছাড়া দেশি-বিদেশি প্রযুক্তিবিদদের অংশগ্রহণে প্রতিদিনই একাধিক সেমিনার হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশের হার্ডওয়্যার খাতকে এগিয়ে নেওয়া এবারের আইসিটি এক্সপোর মূল উদ্দেশ্য। গত সাত বছরে সফটওয়্যারে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। তবে হার্ডওয়্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা ছাড়া সফটওয়্যার চলতে পারে না।

“২০০৯ সালের আগে বার্ষিক আইসিটি এক্সপোর্ট যেখানে ২৬ মিলিয়ন ডলার ছিল এখন ৩০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সরকারের পলিসি সাপোর্ট ও ইন্ডাস্ট্রিজ লিডারের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।”
প্রযুক্তিখাতের হার্ডওয়্যারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, “প্রতি বছর পাঁচ লাখের বেশি ল্যাপটপ, তিন কোটিরও বেশি মোবাইল ফোন আমদানি হচ্ছে। গত বছর ছয় লাখেরও বেশি স্মার্টফোন দেশের বাজারে এসেছে। এসব পণ্য দেশে উৎপাদন করা গেলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ী হতো।”

এ লক্ষ্যে আইসিটি খাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, “আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে গাজীপুরের হাইটেক পার্কে কম্পিউটার, ট্যাব, ল্যাপটপ উৎপাদন শুরু হবে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে এক লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে।

“এগুলো যদি দেশে উৎপাদন করতে পারি তাহলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এসব কিছু গুরুত্ব দিয়েই আইসিটি এক্সপো আয়োজনা করা হয়েছে।”

এছাড়া বিনিয়োগকারীদের কাছে এদেশে আইসিটি খাতের বাজার ও সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরতে প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন প্রতিমন্ত্রী।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, “মেলায় ডিজিটাল জ্ঞানের আদান প্রদান হবে। বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।”
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগের কথা ইতোমধ্যেই জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অরগানাইজেশন’র জরিপে উঠে এসেছে। এদেশে একটি পণ্য উৎপাদন করতে যেখানে ৪৯ দশমিক ৫ ডলার খরচ পড়ে তা এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন ভারত, পাকিস্তান, চীনে উৎপাদন করতে খরচ হয় অন্তত ৭০ ডলার।

‘মিট ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শ্লোগানে আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির যৌথ উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলা হচ্ছে। গত বছর জুনেও তিনদিনের মেলার আয়োজন করেছিল আইসিটি বিভাগ।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এবং কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটি সিসিএ আয়োজনের অন্যতম সহযোগী। মেলার সহযোগী হিসাবে রয়েছে ডেল, মাইক্রোসফট, এইচপি, মাইক্রোল্যাব, সিম্ফোনি, ওয়াল্টনসহ আরও কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।