Sep 20, 2017 / by ictexpo / No Comments

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে ৩ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৭’ । আজ ১৯ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার মেলার দ্বিতীয় দিনে স্টল প্রদর্শনীগুলোতে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। তরুণ-তরুণীসব সব বয়সের মানুষ মেলায় ডিজিটাল প্রযুক্তিপণ্য ও উদ্ভাবন সম্পর্কে ধারণা নিতে এসেছেন।
এ ছাড়া সব জল্পনা-কল্পনা আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে অর্থ স্থানান্তরের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পেপাল জুম সেবা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে মেলায়।
আগ্রহী দর্শকেরা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রায় ৭০,০০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত প্রদর্শনীগুলো ঘুরে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, হার্ডওয়্যার, সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শতাধিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির নতুন সব পণ্য, সেবা, জীবনশৈলী ও ধারণা উপস্থাপন করছে এসব প্রতিষ্ঠান। ১৩২টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে বিভিন্ন সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। নানা ছাড় ও উপহারে বিক্রি করা হচ্ছে প্রযুক্তিপণ্য।
মেলায় গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সুপরিচিত প্রযুক্তি ব্র্যান্ড এইচপি, টিপিলিংক; সিলভার স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণ করছে ডাহুয়া টেকনোলজি, সামিট টেকনোপলিস লি: এবং ওয়ালটন। প্রদর্শনীর স্ট্রাটিজিক পার্টনার ডেল, আইটি পার্টনার আমরা টেকনোলজিস লি:, গেমিং পার্টনার আসুস, মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলা ও কালেরকন্ঠ।
মেক ইন বাংলাদেশ স্লোগানে ১৮ অক্টোবর (বুধবার) সকাল ১০ টা থেকে শুরু হওয়া মেলা আগামীকাল শুক্রবার শেষ হবে। সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রদর্শনী চলবে সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। তবে মেলায় প্রবেশের জন্য মেলায় থাকবে নিবন্ধন বুথ।
ইনোভেশন বা উদ্ভাবন ও বিভিন্নি হার্ডওয়্যার বিষয়ে তরুণদের আগ্রহকে এ মেলার ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন মেলার আহ্বায়ক ইঞ্জি. সুব্রত সরকার । তিনি আশা করেন, কাল শুক্রবার ছুটির দিন মেলায় দর্শক ও ক্রেতা সমাগম আরো বাড়বে। মেলায় তরুণদের উদ্ভাবন করা বিভিন্ন সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। নতুন যাঁরা উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করছে তারা যেন বাণিজ্যিকভাবে তাদের পণ্য বাজারজাত করতে পারে সেজন্য সহযোগিতা হিসেবে ইন্ড্রাস্টি ও তাদের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে দেবে এ প্রদর্শনী ।
আজকের আয়োজন: আজ বুধবার হল অব ফেইমে অনুষ্ঠিত হয় পেপাল-জুম কানেকটিভিটি লঞ্চ ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ফ্রিল্যান্সারস কনফারেন্স।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপোর দ্বিতীয় দিন সকালে এই সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘এতো দিন প্রবাসীরা বিভিন্ন চ্যানেলে তাদের কষ্টাজিত অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। এতে যেমন পয়সা খরচ বেশি হচ্ছে তেমনি করে বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছেন। পেপালের জুম সেবা চালুর মাধ্যমে এখন থেকে তারা সহজেই পেপালের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশে ৪০ মিনিট থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে টাকা পাঠাতে পারবেন।
সজীব ওয়াজেদ আরও বলেন, ‘শুরুতে পেপালের জুম সেবার মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা দেশে পাঠানো যাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ফ্রিল্যান্সারদের কাছে পেপালের এই সেবা চালু করার অঙ্গীকার করেছিলাম। আজ এ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো। ’
অনুষ্ঠানের সভাপতি জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীরা তাদের পেপাল অ্যাকাউন্ট থেকে সোনালী ব্যাংকের আটটি শাখার মাধ্যমে দেশের অর্থ পাঠাতে পারবেন। এটা আমাদের সফলতার প্রথম ধাপ।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির বলেন, আজ দেশে পেপালের জুম সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা কম খরচে দ্রুত সময়ে দেশে অর্থ পাঠাতে পারবেন। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সাররাও তাদের অর্জিত অর্থ দেশে আনতে পারবেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ সম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের অনেক দিনের চাওয়া ছিল পেপাল। আজ পেপালের জুম সেবা চালু হলো। এতে করে দেশে রেমিটেন্স আরো বাড়বে।
আইসিটি সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী বলেন, সরকারের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প থেকে ১৩ হাজার তরুণকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ হাজার তরুণ বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে কাজ করছে। এই ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ সহজে দেশে আনার জন্য পেপালের জুম সেবা চালু করা হলো।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শুরুতে এক হাজার ডলারের কম অর্থ বিদেশ থেকে পাঠাতে খরচ হবে ৪.৯৯ ডলার। কিন্তু এক হাজারের বেশি ডলার বাংলাদেশে প্রেরণ করলে কোনো খরচ দিতে হবে না।
শুধু ফ্রিল্যান্সারাই নয় এই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন সবাই।
পেপাল সেবা চালুর বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সোনালী, রূপালী ব্যাংকসহ নয়টি ব্যাংকে পেপাল সেবা পাওয়া যাবে। বেশ কিছুদিন ধরেই পেপাল কর্তৃপক্ষ বাজার যাচাইসহ নানা পরীক্ষা চালিয়েছে। সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের কথা ভেবে বাংলাদেশে পুরোপুরি পেপাল সেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা পেপাল সেবার জন্য অপেক্ষা করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা উপকৃত হবেন। এ ছাড়া রেমিট্যান্স আসার হার বাড়বে। ডিজিটাল ট্রানজেকশন বাড়বে।
জুনাইদ আহমেদ বলেন, ‘ডিজিটাল লেনদেন, ক্যাশলেস সোসাইটির দিকে যাচ্ছি আমরা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে এ ধরনের সেবা চালু করা গুরুত্বপূর্ণ। পেপাল চালু হওয়ায় নয়টি ব্যাংকের ১২ হাজার শাখা থেকে সেবা পাওয়ার সুযোগ হবে।’
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে পেপাল চালুর জন্য প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ। বাংলাদেশে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার আহ্বানে সাড়া দেয় প্রতিষ্ঠানটি। পেপাল-জুমের ক্যালিফোর্নিয়ার সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পেপালের জুম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা জুলিয়ান কিং।
পরে মে মাসে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে পেপালের সেবা (জুম) চালু করে সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটির সব কটি শাখায় সেবাটি দেওয়ার জন্য একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে শুরুতে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণ ও বিতরণ কার্যক্রম চালুর কথা বলা হয়। তবে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিংয়ের অর্থ লেনদেনের সুবিধা ছিল না।
জুনাইদ আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পেপাল সেবাটি চালু করার চেষ্টা ছিল। এবারে ডিজিটাল বাংলাদেশের সফলতার পালকে আরেকটি মুকুট যুক্ত হলো। এতে রেমিট্যান্স বাড়বে।
আইসিটি এক্সপোতে ছাড়ের ছড়াছড়ি: প্রদর্শনীতে কম্পিউটার ও মুঠোফোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের সর্বশেষ সংস্করণ ও সেবা মিলছে বিশেষ ছাড়ে। সঙ্গে থাকছে নানা উপহার। আমেরিকান ব্রান্ড আইলাইফের বাংলাদেশের একমাত্র পরিবেশক সুরভী এন্টারপ্রাইজ মেলার ৩৭ নং স্টলে এই ব্র্যান্ডের সকল ল্যাপটপ প্রদর্শন করছে। অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্মার্ট ল্যাপটপগুলো ছাত্র-ছাত্রী ও অফিস এক্সিকউটিভদের ব্যবহারের জন্য সুলভ মূলে পাওয়া যাবে। আই লাইফের সর্বাধিক বিক্রিত ল্যাপটপ জেড এয়ার ১৪ ইঞ্চি যার মূল্য ১৬,৪৯৯ টাকা। এছাড়াও নতুন অল ইন ওয়ান ফুল টাচ পিসি মাত্র ২৯,৯৯০ টাকায়। আই লাইফের প্রতিটি ল্যাপটপে রয়েছে ইনটেল প্রসেসর ও জেনুইন উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম এবং ১ বছরের ওয়ারেন্টি । ছাত্র-ছাত্রীরা স্টুডেন্ট আইডি প্রদর্শনপূর্বক মেলায় ১হাজার টাকা পযন্ত ডিসকাউন্ট ও উপহার পাবে।
এ মেলায় বিশাল প্যাভিলিয়ন নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লিমিটেড (ডিসিএল)। এই ব্র্যান্ডের মোবাইফোন কিনলেই পাচ্ছেন নগদ ৬০০ থেকে ২০০০ টকা পর্যন্ত নগদ ছাড়। সাথে থাকছে নিজস্ব ব্র্যান্ডের টি-শার্ট। এছাড়াও মেলায় ডিসএল-এর ল্যাপটপও রয়েছে। সেভেন জেনারেশনের আই৩, আই৫, ও আই ৭ নিয়ে মেলায় হাজির হয়েছে ডিসিএল।
সাশ্রয়ী মূল্য ও কনফিগারেশনের সব ফোন নিয়ে হাজির হয়েছেন ওয়ালটন। এছাড়াও মেলায় ওয়ালটন মোবাইল ও ল্যাপটপ কিনলেই পাচ্ছেন ৫ শতাংশ ছাড় । শুধু ছাড়ই নয় ১০ হাজার টাকার উপরে কোন পণ্য কিনলে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এইবারের মেলায় পান্ডা ইন্টারনেট সিকিউরিটি অ্যান্টি-ভাইরাস পণ্য ক্রয়ে ক্রেতাদের জন্য রয়েছে উপহার । এক জন ব্যবহারকারীর জন্য পান্ডা ইন্টারনেট সিকিউরিটির মূল্য মাত্র ৬০০ টাকা যা মেলার বাইরে ১২০০ টাকা । এবং স্কটকার্ডের মাধ্যমে বাইসাইকেল সহ বিভিন্ন উপহার জেতার সুযোগ ।
মেলা উপলক্ষে দেশে সনির পরিবেশক র‌্যাংগস ইলেকট্রনিকস সব ক্যামেরা বিক্রিতে ১০% পয়ন্ত ছাড় দেবে। এছাড়া হেডফোন ও ব্লটুথ স্পিকারেও ১০% পয়ন্ত ছাড় দেবে সনি ।
মেলাতে বিভিন্ন স্তরের ক্রেতাদের জন্য আসুস নিয়ে এসেছে নতুন টেকনোলজির চমক । বাংলাদেশে প্রথম ইন্টেল এর সর্বশেষ প্রুযুক্তির ‘অষ্টম জেনারেশানের” প্রসেসর সহ নোটবুক আসুস ভিভোবুক এস ৪১০। নোটবুকটির প্রধান আকর্ষণ এর নজড়কাড়া ন্যানো-এজ ডিসপ্লে। থাকছে ১৬ গিগাবাইট র‌্যাম ও উন্নত গ্রাফিক্স কার্ড। শুধু তাই নয়, এর কার্যক্ষমতা দ্রুততর করতে হার্ডডিস্ক এর পাশাপাশি এতে থাকছে এসএসডি। নোটবুকটি শীঘ্রই দেশের বাজারে উন্মোচিত হবে ।
তিন দিনব্যাপী পুরো প্রদর্শনীকে লোকাল ম্যানুফ্যাকচারাস, আইওটি ও ক্লাউড, প্রোডাক্ট শোকেস, ইনোভেশন, মিট উইথ ইন্টারন্যাশনাল ম্যানুফ্যাকচারারস, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, মেগা সেলস, সেমিনার, বিটুবি ম্যাচমেকিং ও হাই-টেক পার্কের মতো এ রকম ১০টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ১৩২টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, কর্মসূচি এবং উদ্যোগগুলো উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) যৌথ উদ্যোগে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবার বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৭’। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ আয়োজন। যেসব অধুনা প্রযুক্তি ও ধারণা তথ্যপ্রযুক্তির প্রকৃতি ও ব্যবহার অবিশ্বাস্য গতিতে বদলে দিচ্ছে সেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটুকু এগোতে পেরেছে, আমাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা কীÑ তা উপস্থাপন করা হচ্ছে এ প্রদর্শনীতে। বিশেষ করে হার্ডওয়ার, ম্যানুফ্যাকচারিং ও গবেষণা খাতের সম্ভাবনা, কর্মপ্রচেষ্টা ও রূপকল্প তুলে ধরা হচ্ছে এতে। উপস্থাপন করা হচ্ছে হাই-টেক পার্ক এবং তথ্যপ্রযুক্তির উৎপাদন অবকাঠামোর অগ্রগতিও। জনসচেতনতা সৃষ্টি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ তৈরি, তরুণদের অংশগ্র্রহণ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ ও উদ্যোক্তা তৈরি করতে সহায়ক হবে এ প্রদর্শনী।
গতকাল বুধবার হল অব ফেইমে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম ও বিসিএসের সভাপতি আলী আশফাক , বিসিএসের মহাসচিব ইঞ্জি. সুব্রত সরকার।
মেলা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। এর সুফল পেতে হলে ডিজিটাল বাংলাদেশকে বাণিজ্যিকরণ করতে হবে।’
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘হার্ডওয়্যার খাতে সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস ২০২১ সালের মধ্যেই হার্ডওয়্যার রপ্তানি করবে বাংলাদেশ। ’
বিসিএস সভাপতি আলী আশফাক বলেন, ‘সরকারের সকল আইসিটি পলিসি বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি। এরই অন্যতম উদাহরণ আজ থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৭। এটি দেশের সর্ববৃহৎ আইসিটি প্রদর্শনী।’
আজ বৃহস্পতিবার উইন্ডি হলে ইমপ্লয়িবিলিটি স্কিলস নামের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উইটসার পরিচালক জনাব সবুর খান। এ ছাড়া ট্রেড সিম্পলিফিকেশন, ইট্রেড নামে আরেকটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়ছে।
আগামীকাল ২০ অক্টোবর উইন্ডি হলে সেরা উদ্ভাবনগুলোকে বাছাইপর্ব ও তাদের পুরস্কৃত করা হবে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।